মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। এ কারণে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জ্বালানি তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
ইআইএর সেপ্টেম্বরের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি পূর্বাভাসে (এসটিইও) এ তথ্য দেয়া হয়েছে। এতে ২০২৬ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের গড় দাম হতে পারে প্রতি ব্যারেল ৯১ ডলার ১ সেন্ট। আগের পূর্বাভাসে দাম ধরা হয়েছিল ৮৬ ডলার ৮১ সেন্ট। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ৮০ ডলার ৮৮ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ৮৪ ডলার ৬৫ সেন্ট ধরা হয়েছে। গত আগস্টে ব্রেন্টের গড় দাম ছিল প্রায় ৯১ ডলার। জুলাইয়ের তুলনায় দাম বেড়েছে ৭ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি কমে গেছে। ফলে বিশ্ববাজারে কমেছে সরবরাহ। এ কারণে কিছু এলাকায় জ্বালানি তেল উত্তোলনও বন্ধ রাখতে হয়েছে। ইরানের তেল রফতানিতে বিধিনিষেধ এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিবহনপথে হামলার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইআইএ। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্বজুড়ে তেলের মজুদও কমে আসছে। ইআইএর হিসাবে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মজুদ প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল কমেছে। ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত মজুদ আরো কমতে পারে। ফলে আগামী কয়েক মাস তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
২০২৭ সালের জন্যও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে ইআইএ। সংস্থাটি আগামী বছরের জন্য ব্রেন্টের গড় দাম ধরেছে ৭৩ ডলার ৭৪ সেন্ট। আগের পূর্বাভাসে দাম ছিল ৬৯ ডলার ৩৯ সেন্ট।
ডব্লিউটিআইয়ের দামও বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। নতুন পূর্বাভাসে এর গড় দাম বেড়ে ৬৯ ডলার ৭৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের পূর্বাভাসে ছিল ৬৫ ডলার ৩৯ সেন্ট। তবে ২০২৭ সালে তেলের দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও মজুদ বাড়তে শুরু করবে।
জ্বালানি তেল পরিবহনে বিকল্প পথের ব্যবহার বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থলপথ, বাইপাস পাইপলাইন ও এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের কৌশল। ইআইএ মনে করছে, ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বাণিজ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক হতে পারে। তখন ব্রেন্টের দাম কমে গড়ে ৭৭ ডলারে নামতে পারে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দাম আরো কমে যেতে পারে। সে সময় ব্রেন্টের গড় দাম কমে ৬৭ ডলারে নেমে আসতে পারে। তবে ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। হরমুজ প্রণালিসহ বিকল্প নৌপথ দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সংঘাতের পরিস্থিতি পাল্টালে তেলের দামে বড় ওঠানামা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইআইএ।
বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৬ সালে পেট্রোলিয়ামসহ অন্যান্য তরল জ্বালানির উৎপাদন দৈনিক গড়ে ১০০ কোটি ৬২ লাখ ব্যারেল হতে পারে। ২০২৭ সালে উৎপাদন বেড়ে দৈনিক ১০৯ কোটি ৮৮ লাখ ব্যারেলে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন ২০২৬ সালে দৈনিক ১ কোটি ৩৮ লাখ এবং ২০২৭ সালে ১ কোটি ৪২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে।